সালাত ত্যাগ করলে কি কাফের হয়ে যায়?

0
115

সালাত ত্যাগকারীকে কাফির বলেছেন কেউ কেউ। এটা যদি হুঁশিয়ারি এবং সতর্কবাণী হিসেবে বলা হয়ে থাকে, তা হলে তো ঠিক আছে। তবে যদি বাস্তবেই এই ফতোয়া প্রয়োগ করা হয়, তা হলে তো ভাবনার বিষয়। হাদিসে এক্ষেত্রে যে কুফর শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, তাকে তো শাব্দিক অর্থের ওপর কিংবা কুফরে আসগারের ওপর প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে এই ফতোয়া প্রয়োগ করতে গেলে তো মুশকিল। ইদানিং কেউ কেউ বোধহয় সেই দুঃসাহসই প্রদর্শন করছে।

তো কথা হলো, কয় ওয়াক্ত সালাত ত্যাগ করলে কাউকে কাফির বলা যায়? আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই তো নিয়মিত সালাত ত্যাগ করার অপরাধে লিপ্ত, তো তাদের ওপর কি এখন এই ফতোয়া প্রয়োগ করবেন নাকি? তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিক ত্যাগেরই বা সীমারেখা কী? মাঝে কয় ওয়াক্ত আদায় করে নিলে নিয়মতান্ত্রিকতা লঙ্ঘিত হয়? আচ্ছা, যেই ইমামগণের সূত্রে এই অভিমত উদ্ধৃত করা হচ্ছে, তারা বিধান হিসেবে এ সতর্কবাণী প্রদান করে থাকলেও স্পেসিফিক কাউকে নামাজ ত্যাগের কারণে কাফির ফতোয়া দিয়েছেন – এমন দৃষ্টান্ত দেখানো যাবে কি? বেনামাজি তো সবযুগেই ছিলো এবং বিপুল পরিমাণেই ছিলো।

আর যদি এই তাত্ত্বিক বিধানের কোনো প্রয়োগ বাস্তবে না থেকে থাকে, তা হলে হঠাৎ করে এর এত ব্যাপক চর্চা এবং জনজীবনে ভীতি সৃষ্টির কী প্রয়োজন? এই ফতোয়ার দ্বারা আদৌ মুসল্লির সংখ্যা বেড়েছে কি না বা বাড়া সম্ভব কি না – তা ভেবে দেখা যেতে পারে। হাঁ, এর দ্বারা কারো কারো একধরনের বিরূপ মানসিকতা তৈরি হতে পারে।

আচ্ছা, এরপর আরেকটি বিষয় হলো, যদি নামাজ ত্যাগের কারণে কাউকে কাফিরও বলে দেয়া হয়, তা হলে সে পুনরায় মুসলিম হবে কীভাবে? যদি বলা হয়, কালিমা পড়ার মাধ্যমে, তখন তো প্রশ্ন আসবে, সে তো কালিমাকে অস্বীকার করেনি। যদি বলা হয়, নামাজ আদায়ের মাধ্যমে, তখন তো প্রশ্ন আসবে, ইমান ছাড়া নামাজ আদায় কীভাবে সম্ভব?

হাঁ, যদি এটাকে সতর্কবাণী হিসেবে এভাবে বলা হয় যে, যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করলো, সে কাফিরদের মতো কাজ করলো বা সে কুফর করলো, আর এর দ্বারা বাস্তবিক কুফর উদ্দেশ্য না নিয়ে শাব্দিক কুফর বা কুফরে আসগার উদ্দেশ্য নেয়া হয়, তখন অবশ্য এ জটিলতাগুলো দেখা দেয় না।

কিছু কিছু বিধান মুখে মুখে চর্চিত হয় ঠিক, কিন্তু অনেকেই তার মর্ম এবং উদ্দেশ্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না, ফলে এক ধরনের ভুল ধারণায় আক্রান্ত হয় এবং অন্যরাও তার কাজে-কথায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় নিত্যদিন। হাঁ, আমাদের মাযহাব অনুযায়ী সেই ফতোয়াই প্রযোজ্য নয়। আমাদের মাযহাবে কেউ সালাত ত্যাগ করলে কাফির হবে না। হাঁ, কেউ যদি সালাতের বিধানকে অস্বীকার করে, তা হলে সে কাফির হিসেবে বিবেচিত হবে।

– আলী হাসান ওসামা হাফি., আলেম ও ইসলামিক লেখক