ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসবে আগ্রহ বাড়ছে

0
9

ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব। উন্নত বিশ্বের এ পদ্ধতি এখন সহজলভ্য রাজধানী ঢাকায়। সিজারিয়ানে অস্ত্রোপচার, প্রসব পরবর্তী জটিলতা, এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এই প্রসবে আগ্রহ বাড়ছে মায়েদের। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব। তবে হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকায় খরচ এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। সরকার আন্তরিক হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পদ্ধতির প্রসব চালু করা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ক্যামেরায় নয়, ঘরের নতুন অতিথির ছবি যেন হৃদয়ে ধারণের চেষ্টা প্রিয়জনের। ইফতিশা মাহনুন অন্য অনেক শিশুর মতোই পৃথিবীতে এলেও প্রসবের তীব্র বেদনা সইতে হয়নি তার মাকে। আর সে কথাই জানালেন বাবা।

তিনি বলেন, ব্যথামুক্ত ডেলিভারি কথা শোনার পরে আমাদের আগ্রহ হলো। যেহেতু এটা ন্যাচারাল সিস্টেম। এর সাথে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাপোর্ট দিয়ে ডেলিভারিকে যতোটা রিলিফ করা যায় সেই চেষ্টা করা হয়।

উন্নত বিশ্বের মতো দেশেও শুরু হয়েছে ইপিড্যুরাল প্রসব পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ইপিড্যুরাল অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহারের ফলে ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে সন্তান প্রসব সহজ হয় মায়েদের জন্য। প্রথমবার সিজার হলেও দ্বিতীয়বার ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হওয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন মায়েরা।

একটি হাসপাতালের গবেষণা বলছে, ব্যথামুক্ত প্রসব চালু হবার পর, ২০১৮ সালে ৬৬ শতাংশ সিজারিয়ান হলেও চলতি বছরে তা নেমেছে ৩৫ শতাংশে। অন্যদিকে স্বাভাবিক প্রসব বেড়ে পৌঁছেছে ৬৫ শতাংশে।

ইমপালস হাসাপাতালের গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা কনসালটেন্ট ডা. ফারজানা আহমেদ বলেন, এটা একটা অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে সিজারিয়ান রেটটা কমানোর ক্ষেত্রে। যাদের প্রথম ডেলিভারি সিজারিয়ান হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ডেলিভারি ব্যথামুক্ত সহজভাবে করা সম্ভব।

পেইনলেস ডেলিভারি সিজারিয়ানের উত্তম বিকল্প বলে দাবি ইমপালস হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহির আল আমিনের।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে ছয়জন অ্যানেসথিস্ট রয়েছে যারা ৮ ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করছে। ইন্সট্রুমেন্ট এবং ম্যান পাওয়ার এটাই কঠিন। এটা করতে টাকা খরচ হয়। হয়তো এই কারণেই হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয় না।

গেল এক বছরে এই হাসপাতালে ব্যথামুক্ত প্রসব হয়েছে দুশ’র বেশি। এ পদ্ধতিতে প্রসবে খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিজারিয়ান বন্ধে এই পদ্ধতি কার্যকরী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।