আবরার বলেছিল, ‘আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নাও’

0
120

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরারকে নির্যাতনের পর মৃত্যু হওয়ার আগেই তাকে কোলে করে নিচে নেয়ার চেষ্টা করেছিল কয়েকজন। তখন আবরার বলেছিল, আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাও’।

আবরারকে কোলে করে নিয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর এ বক্তব্য প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। তবে ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

খবরে বলা হয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত আবরারকে হাসপাতালে নিতে পারেনি। কেন নিতে পারেনি তা বলেননি ওই শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, ২০০৫ নম্বর রুমে আবরারকে আমি দেখি। তখন সে বেঁচে ছিল। তখন পুলিশ চলে এসেছে।

আমরা পুলিশের কাছে যাই, পুলিশ বলে ওকে (আবরারকে) নিচে নামানোর ব্যবস্থা করা হোক, যেন হাসপাতাল বা থানায় নেয়া হয়। এটা পুলিশের ভাষ্য। আমি কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে আবরারকে কোলে করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম।

তিনি বলেন, সময়টা রাত ২ থেকে ৩ টার মধ্যে। সে তখন জীবিত ছিল এবং আমাদের বলছিল, আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাও। বিশেষ করে বিশেষায়িত কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সে।

তিনি বলেন, এম্বুলেন্স আসতে দেরি হচ্ছিল। পুলিশ ছিল। যেকোন কারণেই হোক আমার আর সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা প্রথম সংবাদ পাই আমাদের ঐ এলাকায় যে মোবাইল পেট্রোল পার্টি আছে তাদের কাছে। তারা থানায় ফোন করে জানায়, বুয়েটে গণ্ডগোল হচ্ছে। তখন পুলিশের এই দলটি বুয়েটে যায়।

তিনি বলেন, রাত সোয়া দুইটার দিকে পুলিশের একটা দল যায় হলে। কিন্তু তাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। ছাত্রলীগের কিছু ছেলে এসে বলে এখন ঢুকতে পারবেন না, কারণ আমাদের হল কর্তৃপক্ষ এখন কেউ আসেনি।

তিনি বলেন, পুলিশের এই দলটি ৩টা পর্যন্ত সেখানে ছিল তারপর সেখান থেকে চলে আসে। এরপর বুয়েট ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি রাসেল (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আবার থানায় ফোন করে এবং জানায় এখন তাদের হলের প্রভোষ্ট এসেছে। এখন আপনারা আসতে পারেন।

সোহরাব হোসেন বলেন, ৪টার দিকে আবারো পুলিশ সেখানে যায়। প্রভোষ্ট, ডাক্তার সেখানে সবাই উপস্থিত ছিল। ডাক্তার সেখানে আবরারকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর সেখানকার প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।